ওয়েবডেস্কঃ
ফেব্রুয়ারি মাসের গোড়ার দিক থেকে হামলায় বিধ্বস্ত ইউক্রেন। আর সে দেশেই আটকে ভারতের হাজার হাজার ডাক্তারি পড়ুয়া। অপারেশন গঙ্গার মাধ্যমে ভারতীয় ডাক্তারি পড়ুয়াদের নিজের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলেও এখনো পর্যন্ত আটকে রয়েছেন হাজার হাজার ভারতীয় পড়ুয়া।
এমতাবস্থায় টানা কয়েকদিন জল ,খাবার না পেয়ে সীমান্তের দিকে এগোবেন বলে টুইট করে হুঁশিয়ারি দিল ভারতীয় পড়ুয়ারা। তারা আরো বলেন সীমান্তের দিকে এগোতে গিয়ে যদি মারা যান তবে তার দায় থাকবে সম্পূর্ণ ভারত সরকারের।
ইউক্রেনে আটকে থাকা ভারতীয় পড়ুয়াদের অভিযোগ, যুদ্ধ লাগার পর দশদিন তাঁরা অপেক্ষা করেছেন। শুক্রবারও তাঁদের জানানো হয়েছিল শনিবার সকালের মধ্যে উদ্ধার করা হবে। কিন্তু, ভারতীয় দূতাবাস বা বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে তখনও পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি।
পাশাপাশি ভিডিওতে এক চিকিৎসক পড়ুয়া বলেছেন, ‘‘আজ শুনলাম রাশিয়া দু’টি শহরে উদ্ধারের জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। এরমধ্যে একটি শহর হল মারিওপোল, যা এখান থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরে। এখানে কোনও যুদ্ধবিরতি নেই। সকাল থেকে প্রবল বোমাবর্ষণ, স্ট্রিট ফাইট চলছে। আমাদের খুব ভয় লাগছে। আমরা হোস্টেলে বন্দি হয়ে থাকলেও মারা যাব, আবার রাস্তাতে বেরোলেও মরব। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখনই সীমান্তের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ছি। রাস্তায় গুলি লাগলে বা প্রাণ গেলে ভারত সরকার ও ভারতীয় দূতাবাস দায়ী থাকবে। ‘অপারেশন গঙ্গা’ সম্পূর্ণ ব্যর্থ।’’
এদিকে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা না হলে এত পড়ুয়াকে ইউক্রেন থেকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব নয় বলে আগেই জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি।
অন্যদিকে উদ্ধারকাজে কেন্দ্রীয় সরকারের ঢিলেমি নিয়ে এক ভারতীয় পড়ুয়ার প্রশ্ন, “সরকার বলছে তাদের বাস আমাদের জন্য সীমান্তে অপেক্ষা করবে। তোমরা যদি গোলাবর্ষণের ভয়ে আমাদের কাছে এসে পৌঁছতে না পারো, তাহলে কলজ পড়ুয়ারা কী করে বাস, ট্যাক্সি, ট্রেন ছাড়া সীমান্তে পৌঁছবে বলে আশা করে? গতকাল কয়েকটা যুদ্ধবিমান আমাদের হস্টেল চত্বরে বোমা ফেলে। তাতেই কয়েকজন পড়ুয়াা আতঙ্কে জ্ঞান হারায়। শিশুরাও প্যানিক অ্যাটাক আর ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”
যদিও এমন পরিস্থিতিতেও দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বহু ভারতীয় পড়ুয়াদের। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে বিনা আঁচড়ে নিজের ঘরে ফিরেছেন দেশ তথা রাজ্যের বহু পরুয়া।
