
সাধন দাস
অরুণ ইজ অরুণ
সিংহিদের বিকেলের বারান্দায় দাবা খেলার শিকড় গজিয়ে গেছে। খেলার চোটে মেঝেতে ফাটল ধরেছে। ফাটলে পোড়া বিড়ি, ছাইয়ের সারে দাবার থুড়ি বটের চারা গজিয়েছে। সেখেনে তিনমাথা বুড়োদের কাছে তিনদিন খেলা শিখে, বলে বলে বুড়োদেরই কিস্তি দিচ্ছিলো, অরুণ ( বৈরাগী)। তেলিপাড়ায় ব্যাটমিন্টন খেলায় গো-হারা হারছিলাম। অরুণকে নিয়ে গিয়ে ওদের হারিয়ে লেজে গোবরে করে এলাম। অরুণ ডানহাত, বাঁহাতে সমান ক্যারম খেলে। মাঝের পাড়ার আই পি এস রাখালদা ফি-বছর চাম্পিয়ন হয়। অরুণ বাঁ হাতে খেলে অবলীলায় ট্রফি নিয়ে এলো।
ক্লাশ টেন। ছেলে পরীক্ষা দিতে যাবে। সকাল থেকে মা ঠেলছে- ওরে অরুণ ওঠ, চান কর, খা। আজ তোর পরীক্ষা।
দশটায় পরীক্ষা। দশটা পার হয় হয়। হেলতে দুলতে অরুণ বেরুলো। কী জানি, ছেলেটা কোথায় যেতে কোথায় চলে যায়! অনেক দূর থেকে মা ফলো করছে। পরীক্ষা হলে ঢুকিয়ে তবে নিশ্চিন্ত হবে। ছেলে ঢুকলো (চয়নিকা) বিড়ির দোকানে। আয়েস করে একটা পান খেলো। বিড়ি ধরালো। মা দেখছে। ছেলে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে, মাথা ফুঁড়ে ধোঁয়া উড়ছে। অরুণ পরীক্ষার হলে ঢুকলো তখন সাড়ে দশটা বেজে গেছে। মা হাঁফ ছাড়লো। গার্ড-জগাবাবুকে প্রশান্তস্যর বললেন- নিন জগাদা আপনার ‘অন্নে’(অরুণ) এলো।
বহরমপুর থেকে ফিরে ঠিক করলাম, বনগাঁতেও রৌরবের দল হবে। এখান থেকেও রৌরব বেরুবে। অরুণ তখন গিটার বাজায়। বহরমপুর যাওয়ার সময় গিটারটা ওকে দিয়ে গিয়েছিলাম। মাস্টার টাস্টার লাগেনি চাঁদিনি রাতে নিজেই আপন মনে “উই আর নট এ্যালোন …” দিব্যি বাজাচ্ছে। এক কলমও লেখে না। কোনোদিন লেখেনি। তবু অরুণকেই করা হলো রৌরবের ‘বনগাঁ সম্পাদক’। লেখা জোগাড় করতে গেলাম, বহরমপুর। বাশারদা তিনটে গল্প এনেছিলো। অরুণ পছন্দ করলো “চোর”। ছাপা হলো। শিলাদিত্য পত্রিকা গল্পটা রিপ্রিন্ট করলো। সেখান থেকে গল্পিটা পড়লেন সাগরময় ঘোষ। তারপরই তো আবুল বাশারকে ডেকে পাঠালেন।
