Categories
কুলিক রোববার

কুলিক রোববার : স্মৃতি ৩৮

সাধন দাস

আমরা রৌরবিয়ানস

চাঁদু ওরফে শুভ,(চট্টোপাধ্যায়), সমীরণ (ঘোষ), শান্তিময় (মুখোপাধ্যায়), (আবুল) বাশারদা, বাবুয়া (অনুপম ভট্টাচার্য), উমা (পদ কর) দা, নাসের(হোসেন), অজয় (বিশ্বাস) আমরা একপাল ঘর জ্বালানি পর ভোলানি উচ্চিংড়ে, রৌরব নামে এক পত্রিকা বের করি।

কলেজে বাবুয়া কংগ্রেসের হোমড়া চোমড়া। দাপুটে নেতা। তার যখন রৌরবে আনাগোনা, নব্যপড়ুয়ারা নাক সিঁটকে সহজেই রায় দিলো ওটা কং আখড়া।

বাম জমানার দাপট চলছে। রাবীন্দ্রিক চর্চা টপকে, দুচার পিস বামগন্ধী ধারালো লেখা পত্রিকায় উঁকি মারতেই সি পি এমের দুচারজন নেতা, হাফনেতার ঝিটকি নড়ে উঠলো। মুনিষমার্কা ছোকরাগুলোকে যদি হাতানো যায়। শহরে একটা ফোর্স বটে! কাণাঘুষোর চক্রব্রুহে অরুণের (বনগাঁ শাখার সম্পাদক) ফোকলা দিদিমাও চিনে ফেললো আমরা সিপিআনের পোঁ ধরা।

বাশারদা এস ইউ সি আই করে। রবীন পাক্কা এস ইউ সি আই। ওদে মুরুব্বিয়ানায় পার্টির বই, পত্রপত্রিকা সহজেই আমাদের বোগলে ঢুকে গেলো। স্বপনদা, কুনালদাদের মাদুরে বসে দুচারদিন গ্রুপরিডিং করলাম। কোলকাতার জনসভায়ও গেলাম। ব্রিগেডের লোকজন জেনে গেলো এরা এস ইউ সি আইএর লেজ, ব্রিগেডের বাইরে হয়ে গেলাম এস ইউ সির ধামাধরা।

জেল থেকে ছাড়া পেলেন গরমাগরম নকশাল নেতা আজিজুল হক। পণ্ডিত, তাত্ত্বিক মানুষ। রোমাণ্টিক জীবনের লোভনীয় গল্প। ভিড়ে গেলাম ওনার সোদপুরের বাড়িতে। উনি এলেন, হেলুফেলুদের আড্ডায়। ওনাকে নিয়ে শহরে আলোচনা সভা করলাম। ঢিঢি পড়তে বাকি থাকলো না, ছিঃ ছিঃ এরা নকশাল পন্থী।

শহরের হাত পা নাক মুখ একটু একটু করে গিলে ফেলেছে রাজনীতি। দমবন্ধ অবস্থা। শিল্পী, সাহিত্যিক, শিক্ষক, ডাক্তার কেউ বাকি নেই। সবার গায়ে গায়ে ছাপ্পা পড়ে গেছে কংগ্রেস, সি পি এম, এস ইউ সি, নিদেন পক্ষে নকশাল। মুশকিল হচ্ছে আমাদের নিয়ে। গেলাও যাচ্ছে না, ওগড়ানোও দায়। চেনাও যাচ্ছে না। ছাপ্পা মারাও যাচ্ছে না।

দেশে দেশে সমাজতান্ত্রিক দূর্গগুলো এক এক করে ধ্বসে পড়ছে। রাজনীতির ঢাক ঢোলের আড়ালে খবর পাওয়া গেলো, আলবেনিয়া নাকি একটা দেশ সমাজতন্ত্রের আগমার্কা আদর্শে গম গম করে চলছে (খবরটা পুরোনো ছিলো)। টগবগে সিদ্ধান্ত হলো আলবেনিয়া সংখ্যা বেরুবে। সাহায্য এলো দিল্লী থেকে। গদার পার্টির দুজন নেতা একপাঁজা বই, পত্রপত্রিকা, ডকুমেন্টস নিয়ে হাজির। খবর পাঁচ কান হতে সময় লাগলো না।

সি পি এম বিচ্ছিন্ন, “মস্কো মামলা” খ্যাত আশি বছরের মণি গুহ এলেন আলবেনিয়া সংখ্যার উপদেষ্টা হয়ে। উনি তখন নতুন বিদ্রোহী বামপন্থী দল তৈরি করছেন। তাঁর সাথে আমাদের দহরম মহরম। জানতে কারো বাকি থাকলো না।

মণি গুহতে এলার্জি বিখ্যাত ট্রেড ইউনি‍য়নিষ্ট বি বি সি(বনবিহারী চক্রবর্তী )র শ্যামবাজারের পাঠগুদামে, লোক সমক্ষে আমাদের গতায়াত বেড়ে গেছে। লেখা চাই। দিশা চাই।

শহর জুড়ে জিজ্ঞাসা চরে বেড়াচ্ছে, এই উদমাগুলো কারা! কোন মেরুদণ্ডে এদের শিরদাঁড়া তৈরি! কিছুতেই ছাপ্পা কেনো দেওয়া যাচ্ছে না! তখন আমাদের প্রেম করার বয়স। ডানহাতে না বাম হাতে, আড়ে না লম্বায়, কী ভাবে ধরবো জীবনটাকে, কোন আচরণে তাকে জানবো। বুক বাজিয়ে সবাইকে বলতে পারবো, “আমরা রৌরবকে ভালবাসি” বলে বেরিয়ে পড়েছিলাম। সেই অভিযান চলছে। আজও জানিনা কোন পথে মুক্তি।

1

Leave a Reply Cancel reply