সাধন দাস
আখের মতো রোগা কালো যুবক দু’তিনটে আখ হাতের মুঠোয় চেপে হেঁসোর এক এক টানে পেড়ে ফেলছিলো। মড়মড় শব্দ হচ্ছে। দিনে তিন টন কাটতেই হবে। হাতের মুঠোয় নরম ঠেকলো। চলন্ত হেঁসো থামিয়ে দেখলো, আখ নয় খেংড়িকাঠি মেয়েমানুষের কোমর।
আখের মত রোগা কেলটে যুবতি দু’তিনটে আখ হাতের মুঠোয় চেপে হেঁসোর এক এক টানে পেড়ে ফেলছিলো। তিন টন কাটতেই হবে। হাতের মুঠোয় নরম ঠেকলো। আখ নয়, কাঠির মাথায় আলুরদম মার্কা মদ্দামানুষের কোমর।
দু’জনেই ফিক করে হাসলো।
দম বললো- আয় প্রেম করি।
খেংড়ি বললো- না। তুই পেট করে দিবি। কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। খাবো কী?
খেংড়ি আগের দিন বলেছিলো- আয় প্রেম করি।
দম বলেছিলো- না তোর পেট হয়ে যাবে। কাজ বন্ধ হলে। খাবি কী?
দু’জনেই মড়মড় শব্দের সাথে খিলখিলিয়ে হাসছে।
মুকাদম (আখের জমির ঠিকাদার) মেয়েমানুষের কোমর হাতের মুঠোয় চেপে ধরলো। পেড়ে ফেললো ডাক্তারের টেবিলে। জরায়ু থাকা চলবে না। ডাক্তার মুঠো মুঠো জরায়ু ধরছে। এক একটানে পেড়ে ফেলছে। বলছে- যা, সুগার বেল্টে ঢুকে পড়।
মুকাদম বলছে- পেট হওয়ার জন্যে আর কামাই হবে না। দিনে চারটন কাটতেই হবে।
আখের খেতে আলুর দম বললো- আয় প্রেম করি।
খেংড়িকাঠি আর কিছু বলছে না। চুপ। হাতের মুঠোয় তিন চারটে আখ। এক এক টানে পেড়ে ফেলছে। আখক্ষেতের বুক ভাঙা শব্দ হচ্ছে মড়মড়।
(পুনঃপ্রকাশিত)
