লকডাউন পরিস্থিতিতে আমার দু’চার কথা

লকডাউনে আমরা নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী ঘরে খাওয়ার মজুদ করার চেষ্টা করেছিলাম । এর পেছনে অবশ্যই একটা ভয় বা অনিশ্চয়তা কাজ করছিল। কিন্তু গৃহবন্দী আমরা অনেকেই অবসর সময়ে হয়ে উঠলাম খাদ্যবিলাসি । মজুদ করা কাঁচা খাদ্য সামগ্রীকে দোসর করে নানা রকম ব্যঞ্জন প্রস্তুতের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠলাম। কিন্তু আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, বাড়িতে খাওয়ার থাকলে আমরা সৌভাগ্যবান। কিন্তু যে বিপর্যয়-এর কল্পনাও হয়তো আমরা ঠিক করে করতে পারিনি তা এখনও সে ভাবে শুরুই হয়নি। সামনে কি দিন আসছে কে জানে। আতঙ্কিত না হওয়াই বাঞ্চনীয় কিন্তু নিশ্চিন্ত হয়ে যাওয়ার সময়ও আসেনি। বরঞ্চ আমাদের কাছে অতিরিক্ত খাদ্য থাকলে আমরা যেন আসেপাশের সেই লোকগুলিকে সাহায্য করি যাদের খাদ্য জুটছে না। তাই বলে কি আমরা মুখের স্বাদ বদলাব না? নিশ্চয় বদলাব। নিশ্চয় ভালো ভালো রান্না করে ছবিও পোস্ট করব কিন্তু তা যেন আগামীকালের কথা ভুলে গিয়ে না হয়। সামগ্রী যতটা সম্ভব বাঁচাতে হবে। বাজারের ভীড়ও এড়াতে হবে। আর হ্যাঁ একে অপরের বিপদ নয় বল হয়ে দাঁড়াতে হবে। আসুন আমরা মানসিক ভাবে একে অপরের হাত ধরে বাঁচি। আর যারা এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ঘরের বাইরে থেকে লড়াই করছে তাদের লড়াইটা আমরা যেন কঠিন করে না দিই। সহজ করতে পারি কি না সে বিষয়ে ভাবি।

অর্পিতা গোস্বামী চৌধুরী, সাহিত্যিক
রায়গঞ্জ , উত্তর দিনাজপুর

20