“একটা জীবন কত কিছু দেখে
একটা জীবন কত কিছু শেখে”
কয়েক দিন আগেও LOCK DOWN, Home Quarentainএই শব্দগুলির সঙ্গে অন্তত আমার কোনো পরিচয় ছিল না।
বেশ ছিল স্কুল,ছাত্র, অভিভাবক অভিভাবিকা, সহকর্মী, সবাই মিলে জীবনের মানে খুঁজে চলা।হঠাৎই ছন্দ পতন। রাত ৮ টায় ৪ ঘন্টার নোটিশে দেশজুড়ে লকডাউন।
অবশ্য তার আগে থেকেই দেখতে পাচ্ছিলাম পরিচিত মানুষদের ‘নিজে বাঁচি তো’, মানসিকতার থেকে এক রকম পাগলামি। পারলে বাড়ির জন্য গোটা দোকানই উঠিয়ে আনেন।আমার বৃদ্ধ বাবা,মা অন্তত ৪৫০ কিলোমিটার দূরে। চিন্তার মধ্যে থাকি সারাক্ষণ। আর এখন সত্যি কী অদ্ভুত এক অবস্থা।
তিন ছেলে, স্কুল বন্ধ। সারাক্ষণবাড়িতে আটকে রাখা,ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝবেন না!এর সাথে বাড়িতে গিন্নির দেওয়া নতুন দায়িত্ব বাসন মাজা,রাতের খাবার তৈরি! করোনা ভাইরাস না হয়ে আমার সন্তান হলে বুঝিয়ে দিতাম লোকজনকে জ্বালাতন করার মজা!!

মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হলেও অনেকের বাড়িতেই খাতা পড়ে আছে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা শোচনীয়, সত্যি কী ওরা বা যারা বিভিন্ন চাকরির ক্ষেত্রে ছিল তাদের কী হবে ভাবতে পারছি না!
মাষ্টারমশাইদের নিয়ে একটা সহায়ক গ্রুপ হয়েছে। ওখানে প্রকৃত অসুবিধার মধ্যে যাঁরা আছেন তাঁদের কাছে একটু খাবার, ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছি মাঝে মধ্যে। আর দেখতে পাচ্ছি, লকডাউন উৎসব পালনে মানুষের কী উৎসাহ! বাজারে ভিড়,দোকানে লাইন যেন আজ না নিলে পাওয়াই যাবে না কিছু ভাবটা এমন।
তবে শোচনীয় অবস্থা ছোটো ব্যবসায়ী,চাষি, টোটো চালক,রিক্সা চালকদের।ওরা কেউ কেউ সব্জি নিয়ে বেরুচ্ছেন,কেউবা আলুর খেতে ছুটছেন, আমার নিজের চোখে দেখা।আর আতঙ্ক!

দেখতে পাচ্ছি,এর মাঝেও রাজনৈতিক তরজা, সাম্প্রদায়িক উস্কানি।

জানি না, এ যন্ত্রণা শেষ হবে কবে?প্রকৃত তথ্য তো পাচ্ছি না, শুধু বুঝতে পারছি
“একটা এমন মিরাকল হোক
মানুষ বাঁচুক, খেয়ে পরে।
বাঁচুক আগামী প্রজন্মের কুঁড়ি
নতুন ফুল আরোগ্য এনে দিক মানুষের মনে।”

কৌশিক গোস্বামী, শিক্ষক, জলপাইগুড়ি

22